৩৬বছরের আশরাফুল ফিরতে চান ২৫ বছর বয়সে

মোহাম্মদ আশরাফুল যাকে এক সময় বলা হতো বাংলাদেশের আশার ফুল। এখন সে ৩৬বছরের আশরাফুল যাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখতা তরুণেরা, যাকে বলা হতো ক্রিকেট বিশ্বের লিটিল মাস্টার। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস তাকে আবার শুরু করতে হচ্ছে শূন্য থেকে। যে আশরাফুল ক্রিকেট বিশ্বকে চিনিয়েছে বাংলাদেশের নাম,যে ৩৬বছরের আশরাফুল শিখিয়েছেন কিভাবে জিততে হয়, সেই আশরাফুল আজ নিজেকে প্রমাণের সুযোগে  ব্যাস্ত। মোহাম্মদ আশরাফুল এবারের বঙ্গবন্ধু কাপে দল পেয়েছে মিনিস্টার গ্রুপ অফ রাজশাহীতে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, আমি অবশ্যই নিজেকে প্রমাণ করতে চাই আর সেই সুযোগের অপেক্ষায় আছি।

Mohammad_Ashraful_Update_news

আরো পড়ুন….

তিনি বলেন,

আমি ক্রিকেটে পুনরায় কামব্যাকের পরে ২০১৮ তে সুযোগ পেয়েছিলাম কিন্তু সেখানে মাত্র দুইটা ম্যাচ পরে আমাকে ড্রপ করা হয়েছিল। তাই আমি নিজেকে সেভাবে প্রমাণের সুযোগ পাইনি। এখন আমি নিজেকে প্রমাণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। পূর্বের তুলনায় ফিটনেস এবং আত্মবিশ্বাস পরিপূর্ণ আমি। আশাকরি প্রথম থেকে দলে সুযোগ পাবো এবং দলের প্রত্যেকটা খেলায় অবদান রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা  করব।

তিনি বলেন এখনই আমি জাতীয় দল নিয়ে ভাবছিনা জাতীয় দল এরপরের স্টেপ।  আমি এখন আপাতত

শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু কাপ নিয়ে ভাবছি। স্কিল বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন,অবশ্যই আগের থেকেই স্কিলে অনেক উন্নতি হয়েছে তবে আগে ফিটনেস কিছুটা ঘাটতি ছিল

এখন সেই ঘাটতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠেছে। তিনি বলেন আমি ১৩০ বলে ১০০ বা ১২০বলে ১০০ করতে চায়না। দর্শক আমাকে ১০১ বলে১০০, ৮০ বলে ১০০ দেখতে পছন্দ করে।

আর আমি সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করেছি। এবং তিনি বলেন বয়স টাকে আমি সেভাবে দেখছিনা এটা শুধুমাত্র একটা সংখ্যা। আমি অবশ্যই চেষ্টা করব একজন ২৫ বছর বয়সী প্লেয়ারের মত খেলতে। এক্ষেত্রে তিনি পাকিস্তানের প্লেয়ার মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিকের উদাহরণ দেন।

এদিকে মিনিস্টার গ্রুপ অফ রাজশাহীর কোচ সারোয়ার ইমরানও আশা করেন মোহাম্মদ আশরাফুল ফিরবেন।

আশরাফুলের মতই। তিনি বলেন সে আমাদের দলের সর্বোচ্চ অভিজ্ঞ প্লেয়ার। তার মত প্লেয়ার দলে থাকা অবশ্যই স্বস্তির বিষয়। মোহাম্মদ আশরাফুলকে ক্রিকেট বিশ্বের এক দুর্ভাগ্য রাজপুত্র বলা যায়। ক্রিকেট বিশ্বে যার আবির্ভাব হয়েছিল রাজার মতই। ২০০১ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন, যা এখনো ক্রিকেট বিশ্বের অভিষেক টেস্টে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে অক্ষত আছে। তার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০১ বলে ১০০ রানের ইনিংসটি। সেদিন আশরাফুলের ব্যাটের সামনে যেন অসহায় হয়ে গিয়েছিল বিশ্বের বাঘা বাঘা সব বোলার। সেদিন হার মেনেছিল ব্রেট লী, গ্লেন ম্যাকগ্রা, শেন ওয়ার্নদের মতো বোলাররা। তিনি বাংলাদেশকে জিততে শিখিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বে চিনিয়েছেন বাংলাদেশর নাম। বাংলাদেশ ক্রিকেটে যার এত অবদান তিনি কি পারবেন আবার ফিরতে। আবার কি পারবেন বাংলাদেশের আশার ফুল হতে?তিনি কি পারবেন ২০১৪ সালের সেই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের স্মৃতি মুছে ফেলতে?হা, তিনি পারবেন কারণ তিনি যে আশরাফুল। তিন হার না মানা সৈনিক।

আরো পড়ুনঃ চমক দেখালেন রাজশাহী ঘোষণা করলেন অধিনায়কের নাম

উল্লেখ্য মোহাম্মদ আশরাফুলের ২০০১ সালে টেস্টে অভিষেক হয় শ্রীলংকার বিপক্ষে। এবং ১০১৪ সালের আগ পর্যন্ত তিনি ৬১ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন। যেখানে ২৪ এভারেজে করেন ২৭৩৭ রান।

সেঞ্চুরি করেন ৬ টি,যার সর্বোচ্চ ইনিংস ১৯০ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। মোহাম্মদ আশরাফুল ওডিআই ম্যাচ খেলেছেন ১৭৮ টি যেখানে ২২ এভারেজে করেছেন ৩৪৬৮ রান। সেঞ্চুরি করেন তিনটি এবং সর্বোচ্চ রান ১০৯। তিনি ২৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন এবং ১৯ এভারেজে করেন ৪৫০ রান। টি-টোয়েন্টিতে তার সর্বোচ্চ স্কোর ৬৫ রান।

Leave a Comment

Your email address will not be published.