ইসলামী অর্থনীতি কাকে বলে? ইসলামী অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য

আজোকে আপনারা জানতে পারবেন  ইসলামী অর্থনীতি কাকে বলে? ইসলামী অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য তাহলে চলুন শুরু করা যাক…………… ইসলাম মানব জাতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ‘আর ইসলামী অর্থনীতি হল এ পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থারই একটি অপরিহার্য অংশ। ইসলামী জীবন ব্যবস্থা কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়,বরং মানুষের পার্থিব জীবনে চলাফেরা, আদান-প্রদান, আয়-ব্যয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, আচার-আচরণ প্রভৃতি সব কিছুই ইসলামী জীবন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। তাই মানুষ কিভাবে অর্থ উপার্জন করবে, কিভাবে তা ব্যয় করবে, কিভাবে ভােগ করবে; কিভাবে জাতীয় উৎপাদন, বণ্টন ও ভােগ ব্যবস্থা পরিচালিত হবে সে সম্পর্কে ইসলামে সুষ্পষ্ট দিক-নির্দেশনা রয়েছে। আর এ দিক-নির্দেশনার ভিত্তিতেই ইসলামী অর্থব্যবস্থা গড়ে উঠছে। বিভিন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ ইসলামী অর্থনীতির সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।ভ, এম, এ, মান্নান বলেন, “ইসলামী অর্থনীতি হল এমন একটি সমাজবিজ্ঞান যা ইসলামের আলােকে জনগণের অর্থনৈতিক সমস্যাবলি জালোচনা করে। বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ড. মনজের কাক এর, মতে, “ইসলামী অর্থনীতি বলতে ঐ অর্থনীতিকে বুঝায় যেখানে ইসলামী আইন ও প্রতিষ্ঠানসমূহ অস্তিত্বশীল থাকে এবং যেখানে অধিকাংশ মানুষ ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসী এবং এ বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনয়পন করে।” অর্থনীতিনি জ, সাবাহ ইলদিন জাইমের মতে, “ইসলামী অর্থনীতি বলতে ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা ও তাঁর আচরণের সুসংবদ্ধ বিশ্লেষণ ও অধ্যয়নকে বুঝায়।”এভাবে বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ ইসলামী চিন্তাবিদ্ ইসলামী অর্থনীভির বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। এ সংজ্ঞাগুলো পর্যালােচনা করলে দেখা যায়, ইসলামী অর্থনীতির মূল ভিত্তি হল ইসলামী শরীয়ত। সংক্ষেপে বলা যায়, পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ তথা ইসলামী শরীয়ত মােতাবেক যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাকেই “ইসলামী অর্থনীতি‘ [Islamic Economy) বলা হয়।

ইসলামী অর্থনীতি কাকে বলে ইসলামী অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য
ইসলামী অর্থনীতি কাকে বলে ইসলামী অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য

ইসলামী অর্থনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলাে নিম্নরূপঃ

১। ইসলামী শরীয়ত ও ইসলামী অর্থনীতিঃ  এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যা ইসলামী শরীয়তের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে থাকে। পকিত্র কুরশন ও সুন্নাহ হল ইসলামী অর্থনীতির মূল উৎস। ইসলামী অর্থনীতিতে কুরআন ওসুনাহের নির্দেশিত পথেই যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

২। সম্পদের মালিকানাঃ  ইসলামী অর্থনীতিতে সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত। তবে এ মালিকানা চূড়ান্ত নয়। ইসলামের যাবতীয় সম্পদের চূড়ান্ত মালিক হচ্ছে মহান আল্লাহালা । মানুষ হচ্ছে আল্লাহর সৃষ্ট এসব ধন সম্পদের আমানতনার মাত্র। ইসলামী অর্থনীতিতে সম্পদের অমানতকারী মালিকানা স্বিকার করে নেয়া হয়।

৩। সুদমুক্ত অর্থনীতিঃ ইসলামী অর্থনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল সুদবিহীন অর্থব্যবস্থা। সুদ বিহিন অর্থব্যাবস্হা বলতে কোন পরিশ্রম না করে অর্থ শােষণ করা এবং লােকের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে বা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় ফাকি দিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় না করাকে বুঝায়। মানুষের অভাব বা অসহায়তার সুযােগ নিয়ে শােষণ করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। তাই ইসলামী অর্থব্যবস্থায়কে হালাল করা হয়েছে। কিন্তু সুদকে হারাম ঘােষণা করা হয়েছে।

৪। ভােক্তার নিয়ন্ত্রিত সার্বভৌমত্বঃ ইসলামী অর্থনীতিতে ভোক্তার সার্বভৌমত্ব স্বীকৃত; তবে তা অনিয়ন্ত্রিত নয়। ইসলামে অনেক পণ্য ও আয়কে হারাম ঘােষণা করা হয়েছে। কোন ভোকতাই হারাম পণ্য ভােগ করতে পারে না। তাছাড়া, ইসলামে অপবায় সমর্থন করা হয় না।

আরো পড়ুনঃ

৫। বৈধ উপার্জনঃ ইসামী অর্থনীতিতে বৈধ উপার্জনের উপর বিশেষ গুরুত্বারােপ করা হয়েছে। ইসলামী অর্থবাবস্থায় অবৈধ উপার্জনের কোন স্বীকৃতি নেই। এজন্য ইসলামে সুদ, ঘুষ, মদ, জুয়া, কালােবাজারি, মুনাফাখর, মজুতদারি প্রতি অবৈধ ও অন্যায় পথে অর্থ উপার্জন সম্পূর্ণ হারাম’ বা নিষিদ্ধ ঘােষণা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ, তােমরা অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করিও না।”

৬। শ্রমিকের মর্যাদাঃ ইসলামী অর্থনীতিতে শ্রমের বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছে এবং শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসলামে শ্রমিক শােষণ নিষিদ্ধ। মহানবী (সা.) বলেছেন, “শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার পুর্বেই তার মূল্য পরিশােধ কর।* শ্রমিকের অধিকার সংরক্ষণ এবং মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে উন্নত সম্পর্ক বজায় রাখার ও ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে।

৭। অপচয় রােধঃ ইসলামী অর্থনীতিতে কোন ধরনের অপচয় বা অপব্যয়, সমর্থন করা হয় না। বিলাস জীবনযাপনকে ইসলাম সমর্থন করে না। অর্জিত আয় দ্বারা কেবল সুন্দর নীতিবােধসম্পন্ন জীবনযাপন ইসলামে হইবে”। উদ্বৃত্ত অর্থ সমাজের বঞ্চিত মানুষদের প্রদান করা কাম্য বলে ইসলামে উল্লেখ করা হয়েছে।

৮। সকালের জন্য নায্য বণ্ঠনঃ  ইসলামী অর্থনীতিতে নায্য বণ্টনের ব্যবস্থা রয়েছে। এজন্য ইসলামী অর্থব্যবস্থায়  অতিরিক্ত সম্পদ জমা না রেখে বরং তা নিঃস্ব ও গরিবদের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

৯। সম্পদ পুঞ্জিভূত করে না রাখাঃ  ইসলামী অর্থনীতিতে সম্পদ পুঞ্জিভূত করে রাখাকে নিষেধ করা হয়েছে। ইলমের অন্যতম বিধান হল বৈধ উপায়ে যে ধন সম্পদ উপার্জন করা হবে তা সঞ্চয় করে পুঞ্জিভূত রাখা যাবে না কারণ এর ফলে ধন- সম্পদের সুসম বণ্টন ব্যাহত হয়। এজন্য ইসলামী অর্থব্যবস্থায় সঞ্চয়ের মাধ্যমে সম্পদ পুঞ্জিভূত করার পরিবর্তে সম্পদের আবর্তনের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

১০। সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাঃ ইসলামী অর্থনীতিতে সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরােপ করা হয়েছে। ইসলামী অর্থব্যবস্থায় ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার ন্যায্য অধিকার ও সুযােগ-সুবিধা দেয়া হয়। এর ফলে ইসলামী অর্থ ব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

১১। যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থাঃ  ইসলামী অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা। ইসলামী বিধান অনুযায়ী নেছাব পরিমাণ বা তার অধিক অর্থ-সম্পদ কারাে কাছে, এক বছর জমা থাকলে তাকে নির্দিষ্ট হারে যাকাত প্রদান করতে হয়। যাকাত প্রদান সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিদের জন্য ‘ফরজ’ এবং অসহায় ও দুখি ব্যক্তিদের জন্য যাকাতের অর্থ প্রাপ্তি একটি অধিকার। যাকাতের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য হ্রাস পায় এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.